বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম সেপ্টেম্বরে আগের মাসের তুলনায় কমেছে। গতকাল প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগের (এফএও) মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত মাসে চিনি ও দুগ্ধজাত পণ্যের দরপতন মাংসের রেকর্ড দামের ঊর্ধ্বগতিকে সামাল দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৮ দশমিক ৮ পয়েন্টে, যা আগস্টের সংশোধিত ১২৯ দশমিক ৭ পয়েন্টের তুলনায় কম। যদিও এ সূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এফএও মূল্যসূচক রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। সে সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরের খাদ্যপণ্য মূল্যসূচক প্রায় ২০ শতাংশ কম।
সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে চিনি। এফএওর চিনি মূল্যসূচক সেপ্টেম্বরে মাস ভিত্তিতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে, যা ২০২১ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন। ব্রাজিলে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উৎপাদন এবং ভারত ও থাইল্যান্ডে অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
সেপ্টেম্বরে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম মাস ভিত্তিতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ওশেনিয়ায় উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনায় মাখনের দরপতন সব ধরনের দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
গত মাসে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক আগস্টের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ সময় টানা তৃতীয় মাসের মতো কমেছে গমের দাম। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে নিম্নমুখী চাহিদা। এছাড়া আর্জেন্টিনা সাময়িকভাবে রফতানি শুল্ক স্থগিত করায় এ সময় ভুট্টার দামও কমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কয়েক মাস ধরেই নিম্নমুখী আছে চালের দাম। গত মাসেও এ নিম্নমুখিতা অব্যাহত ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন ও আফ্রিকার ক্রেতাদের অর্ডার কমে যাওয়ায় চালের দরপতনের প্রবণতাকে আরো ত্বরান্বিত করেছে।
সেপ্টেম্বরে এফএওর ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক মাস ভিত্তিতে দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। তবে এ সময় পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দাম কমলেও ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের মূল্য।
অন্যদিকে মাংসের মূল্যসূচক দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এ সময় চাহিদা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ার কারণে দাম বেড়েছে। এছাড়া গত মাসে ভেড়ার মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
এদিকে ভিন্ন এক প্রতিবেদনে এফএও ২০২৫ সালের জন্য বিশ্বব্যাপী মোট শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ২৯৭ কোটি ১০ লাখ টন নির্ধারণ করেছে। এর আগের মাসে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ২৯৬ কোটি ১০ লাখ টন। এটি ২০২৪ সালের উৎপাদনের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এবং ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি।